বহিস্কৃত জামায়াত এমপি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের অন্যায় কতটুকু ?
-এডভোকেট জি এম মর্তুজা
বহিস্কৃত জামায়াত এমপি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের অন্যায় কতটুকু ? ইসলামীক ঐতিহাসিক ও আইনী ভাবে তার উপর অভিযোগ দেয়া যায় কিনা এসব বিষয়ে বিশিষ্ট আইজিবী এডভোকেট জি এম মর্তুজা তার এক ফেসবুক পোস্টে একটি স্ট্যাটাস লিখেছেন। আমরা তার লেখাগুলো হুবহু আমাদের পাঠকদের জন্য পেশ করলাম।
এই পোষ্ট টা শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য। শুধুমাত্র বিজ্ঞ আইনজীবীগনই কমেন্ট করবেন। অনুগ্রহপূর্বক আইনজীবী ব্যাতীত অন্য কেউ কমেন্ট করবেন না। আপনারা শুধু আইনের প্রশ্ন ও উত্তর দেখতে থাকুন।
প্রসঙ্গঃ সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন- সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কি আসলেই অপরাধী? অপরাধী হয়ে থাকলে কি কি অপরাধ করেছেন?
উত্তরঃ আইনগত ভাবে এবং ধর্মীয় ভাবে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কোন অপরাধ করেন নি। তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধ প্রমান করা যাবেনা। কিন্তু কেন?
আইনের যুক্তিঃ
১। গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার ২য় স্ত্রী মারিয়ামের নিকাহ্ নামা বৈধ। আপনি কোভাবেই প্রমান করতে পারবেননা যে, নিকাহ নামা অবৈধ। আপনি বলতে পারেন যে, নিকাহ নামা পরে সম্পাদন করা হয়েছে। তা ঠিক আছে। কিন্তু নিকাহ নামা বিয়ের অনেক পরেও সম্পাদন করা যায়। আবার নিকাহ নামায় বিয়ের প্রস্তাবের তারিখ এবং বিবাহ রেজিষ্ট্রির তারিখ আলাদাও হতে পারে। যেমন- আমি বিয়ের প্রস্তাব দিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ্ কবুল বলে বিয়ে করলাম আজকে, কিন্তু নিকাহ নামায় রেজিষ্ট্রি করলাম ৫ বছর পরে। এটা আইন এবং ধর্মীয় উভয় ক্ষেত্রে বৈধ। নিকাহনামা বিয়ের শর্ত নয়। নিকাহনামা বিয়ের প্রমান বহন করে মাত্র। আমাদের পূর্ব পূরুষেরা নিকাহনামা ছাড়াই বিয়ে করতেন।
২। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে কি বৈধ? উত্তর- হ্যা, বিয়ে বৈধ। কারন, ১ম স্ত্রী, ২য় স্ত্রী, শশুর ইত্যাদি কেউ অভিযোগ করেনি বিয়ের বিরুদ্ধে। যেহেতু কাবিন নামা আছে, সেহেতু, তারা ব্যাতীত অন্য কেউ বিয়ে অবৈধ দাবী করলে আইনী এবং ধর্মীয়ভাবে তা অগ্রহনযোগ্য। তাছাড়া তারা স্বামী, স্ত্রী উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক।
৩। এমপি বুড়া বয়সে এত অল্প বয়সের একটা মেয়েকে বিয়ে করে কাজটা কি ঠিক করলো? উত্তর-বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য আইনীভাবে এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহনযোগ্য। বয়সের পার্থক্য বিবাহের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ায় না। উদাহরন হিসেবে আমি বলতে পারি, ক) শেখ মুজিবরের বিয়ের সময় ফজিলাতুন্নেছার বয়স ছিল ৯ বছর। খ) হুমায়ুন আহাম্মেদ যখন তার মেয়ের বান্ধবী শাওনকে বিয়ে করে, তখন হুমায়ন আহাম্মেদ ছিল আনুমানিক ৫০+ এবং মেহের আফরোজ শাওনের বয়স ছিল আনুমানিক ২১ বছর। গ) রবীন্দ্রনাথের বিয়ের সময় স্ত্রীর বয়স ছিল ৬ বছর। ঘ) রাম যখন সীতাকে বিয়ে করে তখন সীতার বয়স ছিল ৯ বছর। চ) বিশ্বনবী যখন ১ম বিয়ে করেন তখন বিশ্বনবীর বয়স ছিল ২৫ বছর এবং বিশ্বনবীর স্ত্রীর বয়স ছিল ৪০ বছর। এছাড়াও বিশ্বনবীর বয়স যখন ৫০ বছর তখন বিশ্বনবী এক সাহাবীর ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেন আলহামদুলিল্লাহ। সুতরাং বয়সের পার্থক্য বিবাহে বাধা হয়ে দাড়ায় না। এই দিক দিয়ে এমপির কোন অপরাধ হয়নি।
৪। এমপি নারী নিয়ে হোটেলে গেল কেন? উত্তর- এমপি তার স্ত্রীকে নিয়ে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যেতে পারে। আইনীভাবে এবং ধর্মীয় ভাবে কোন বাধা নাই।
৫। তাহলে, এমপি তার বউকে নিয়ে হস্টি নস্টি করলো কেন? উত্তর- হলো- স্বামী স্ত্রীর মেলামেশাকে হস্টি নস্টি বলা হয় না। এটাকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে। এমপি জনসম্মুখে তার বউকে চুমু দেয়নি। এমপি তার ভিডিও নিজে ভাইরাল করেনি। এমপির স্ত্রী ভিডিও ভাইরাল করেনি। যারা ভাইরাল করেছে তারা বিষয়টিকে জনসম্মুখে এনে ফৌজদারী অপরাধ করেছে। তারাই আইনীভাবে এবং ধর্মীয়ভাবে অপরাধ করে এমপি দম্পতির সম্মান হানি করেছে।
৬। এমপি পাপ কাজ করে ধরা খেয়েছে? উত্তর- এমপি তার বউয়ের সাথে চুমু খেয়েছে। এটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমরা সবাই অপরাধী। এমপি তার স্ত্রীকে নিয়ে যেখানে খুশী যেতে পারবে। তাতে আপনি আমি বলার অধিকার রাখিনা। হোটেলে গিয়ে এমপি কোন অপরাধ করেনি। বউকে নিয়ে হোটেলে যাওয়া অপরাধ, এই মর্মে আইনে কোথাও বলা নেই। বরং অপরাধ করেছে তারা, যারা স্বামী স্ত্রীর রুমে অবৈধভাবে ডুকে ভিডিও ধারন করে ছড়িয়ে দিয়েছে।
৭। এমপির একাধিক মেয়ের সাথে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? এখন আপনি কি বলবেন? উত্তর হলো- এমপির সবগুলো ভিডিওতে একজন মাত্র মেয়ে ছিল। আর সেটি হলো তার ২য় স্ত্রী মারিয়াম।
৮। হোটেল রুমে ডিজিএফআইএর প্রশ্নের মুখে এমপি বলেনি কেন তারা স্বামী স্ত্রী? এবং কেন বলেছিলো, আমাকে ক্ষমা করে দেন? উত্তর- কোন হোটেল রুমে বা আপনার নীজ বাড়িতে যখন একদল ডিজিএফআই এর লোকেরা আপনাকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাবে, তখন সাভাবিকভাবেই আপনার মুখ দিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বেরুবে। এমপি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এমপিকে হুমকি স্বরুপ প্রশ্ন করাতে ভয়ে এই কথা বলেছিল। তাই বলে এমপির বিয়ে অবৈধ প্রমান করতে পারবেন না। বরং যারা এমপির হোটেল রুমে অবৈধভাবে ঢুকে ভিডিও ধারন করে ছড়িয়ে দিয়েছে, তারাই ফৌজদারী অপরাধ করেছে।
৯। এমপি এতদিন বিয়ে করলোনা কেন? এবং কাবিন নামাটি ঘটনার পরে করলো কেন? উত্তর- কাবিননামা করা বিবাহের শর্ত নয়। কাবিননামা হলো বিবাহের প্রমান। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যখন বিয়ে করতো, তখন কাবিন নামাই ছিলনা। আপনি বিয়ে করার কয়েক বছর পরেও কাবিননামা করতে পারেন। এমপিও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পূর্বে বিয়ে করেছিল এবং কাবিননামা পরে সম্পাদন করেছে। এমপির ২য় স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ন হওয়ার পরেই কাবিন নামা সম্পাদন হয়েছে। তাছাড়া এমপি হলেন তার শশুরের আপন খালু। বিষয়টি সবাই জানতেন এবং সকলের জানামতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তাতে আপনার আমার কিছু করার নেই বা বলার নেই।
১০। তাহলে জামায়াত থেকে তাকে নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিস্কার করা হলো কেন? উত্তর- জামায়াতের সংবিধানে এমপিকে নিয়ে নৈতিক স্খলন জনিত কোন কারন থাকতে পারে, সেজন্য বহিস্কার করা হতে পারে। যেমন, ২য় বিয়ে করতে হলে জামায়াতের সংগঠনকে অবশ্যই জানিয়ে, অনুমতি নিয়ে ২য় বিয়ে করতে হবে। হয়তো এমপি ২য় বিয়ে করার আগে সংগঠনের অনুমতি না নিয়ে নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধ করেছেন। হয়তো তাই সংগঠন থেকে এমপিকে বহিস্কার করা হয়েছে।
১১। এমপি এতো কিছু করলো অথচ আপনার কাছে কোন কিছুই অপরাধ মনে হলো না?
উত্তর- আমার কাছে কোন অপরাধ মনে হয়নি। কারন, তারা ছিল স্বামী-স্ত্রী। তারা যা করেছে তা স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ থেকে করেছে। কারো সামনে গিয়ে কিছু করেনি। বরং, যারা অবৈধভাবে রুমে ঢুকে ভিডিও ধারন করে, সিসি ক্যামেরা খুজে খুজে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে কলুসিত করেছে, তারাই ধর্মীয়ভাবে এবং ফৌজদারী আইনে অপরাধ করেছে।
১২। তাহলে এখন কি হবে?
উত্তর- এমপি বা তার স্ত্রী যদি মামলা করে তাহলে অনেকে শাস্তির আওতায় আসবে, ক্ষতিপূরন পাবে এমপি গাজী নজরুল এবং তার স্ত্রী মারিয়াম।
বিজ্ঞ আইনজীবীগন, আপনাদের মতামত আইনগতভাবে জানাবেন।
#lawyer #advocate #everyone #follower
#বহসকত #জামায়াত #এমপি #নজরুল #ইসলমের #অন্য়ায় #এ্যাডভোকেট #dvc #news #মুক্তিযোদ্ধা #নজরুল #ইসলাম #এডভোকেট #আদালত #জেড #মার্টেজ
WATCH POPULAR Telefilm : Coronar Azab -
WATCH POPULAR Telefilm : Oporadhi -
0 facebook-blogger-disqus:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন